মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চেয়েছে ইরান। এর জবাবে দেশটির কাছ থেকে পাল্টা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আল জাজিরা মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, আগের কোনো আলোচনা বা বৈঠকে ইরান কখনো ক্ষতিপূরণের কথা বলেনি। কিন্তু এখন তারা তা চাইছে। তিনি বলেন, 'ইরানের তৈরি রাস্তার পাশের বোমা ও নানা সংঘাতের শিকার হয়ে যারা মারা গেছেন বা গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের জন্য আমিও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এর মধ্যে ইউএসএস কোলে হামলায় নিহতদের পরিবার এবং যুদ্ধে নিহত হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন।'

ট্রাম্প আরো বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানে নিহত বিক্ষোভকারী এবং গত পাঁচ মাসে প্রাণ হারানো '৫২ হাজার' মানুষের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সাথে লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর জন্যও ইরানকে দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় এই দাবি অন্তর্ভুক্ত করতে তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরায় সাংবাদিক মাইক হানা জানান, চলমান আলোচনা এরইমধ্যেই নানা জটিলতায় জর্জরিত। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এমন দাবি আলোচনা প্রক্রিয়াকে আরো ব্যাহত বা নস্যাৎ করে দিতে পারে।

মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে বর্তমানে প্রকাশ্য ও গোপন—উভয় ধরনের তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে।

একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জোর দাবি করছেন যে তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি আপাতত তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং সুবিধাজনক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, তার প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষক মনে করছেন পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন, যা নীতি নির্ধারণে জটিলতা তৈরি করছে।