সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

নায়ক সালমান শাহকে হত্যার জন্য অভিনেতা ডনের সাথে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল বলে রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে উঠে এসেছে। জবানবন্দী অনুযায়ী, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সাথে চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্কের জের ধরেই এই হত্যা-পরিকল্পনা হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।

জবানবন্দীতে আরো বলা হয়েছে, হত্যা পরিকল্পনার পাশাপাশি ডন ও ডেভিডের বিরুদ্ধে সালমান শাহর ভাই বিল্টুকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বিল্টুকে অপহরণের পরিকল্পনাকালে ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই গ্রেফতার হন রিজভী আহমেদ। পরে ২৪ জুলাই তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

ডন গ্রেফতারের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। লন্ডন থেকে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে ডন সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সালমানের মৃত্যুর পর ডন বিভিন্ন সময় তাদের হুমকি দিয়েছেন, এমনকি গত বছর সেপ্টেম্বরেও প্রেস ক্লাবের সামনে যেতে হুমকি দেয়া হয়েছিল। নীলা চৌধুরী বলেন, ডন একসময় তাদের বাসায় থাকতেন এবং সালমানের কাছ থেকে সহায়তা নিতেন, পরে আচরণে সমস্যা দেখা দেয়ায় তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ডন যেন কোনোভাবে জামিন না পান এবং রিমান্ডে নিলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে সালমান শাহর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন পুলিশ তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরিবার শুরু থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে আসছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও পিবিআইয়ের আত্মহত্যা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালত হত্যা মামলার নির্দেশ দেন। এরপর নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদি হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ: ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।