৫ আগস্ট রাজধানীতে অনেক সভা-সমাবেশ হয়েছে। এদিন রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ’ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘শহীদদের স্মরণে দ্রোহের জুলাই’। অনুষ্ঠানের শিরোনাম থেকেই আয়োজকদের লক্ষ্য উপলব্ধি করা যায়। তারা জুলাইয়ের দ্রোহের চেতনাকে জাগ্রত রাখতে চেয়েছেন এবং সম্মান প্রদর্শন করতে চেয়েছেন জুলাই শহীদদের প্রতি। আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে সময়ের সঙ্গত কর্ম হিসেবে বিবেচনা করতে হয়। জুলাই শহীদ স্মরণের এই অনুষ্ঠানে অনেকেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পরিবেশন করেছেন, তবে ছোট্ট এই পরিসরে দু’জনের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই।

জুলাই বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ করতে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন; শ্রমিক, ছাত্র, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী, সবাই মিলে শহীদ হয়ে এই বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। এত এত শহীদদের ভার আমাদের ওপর, আমরা তা ভুলে গেলাম কীভাবে? এখানে মাহমুদ ভাই আক্ষেপ করে বললেন-এক সময় তো আমরা একসঙ্গে চলছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে পরস্পরের শত্রু হয়ে গেল। তিনি সবাইকে নিয়ে চলছিলেন। আমি তাকে বলবো, হ্যাঁ ভাই আপনি আবার উদ্যোগ নিন। আমাদের দোয়া পাবেন, সমর্থনও পাবেন। আমরা একটা অক্ষত জাতি চাই। আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য চাই।

জুলাই শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি প্রত্যাশা করেছিলাম এ দিনটি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করবো। আমার আশা ছিল, সরকার এই দিনটি পালন করার জন্য একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠন করবে এবং সেই সর্বদলীয় কমিটির মাধ্যমে আমরা দিনটি পালন করবো। যদি এটা করা হতো তাহলে আমি নিশ্চিত, আজকে কয়েকটি অনুষ্ঠানে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, আমরা হয়তো সেই অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা পেতাম। এই দুঃখজনক অধ্যায়টা হয়তো এড়াতে পারতাম, যদি আজকের সব অনুষ্ঠান আমরা আলাদা না করে ঐক্যবদ্ধভাবে করতে পারতাম। আমার ধারণা, জাতি একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য দেখতে চায়। যে ঐক্যের মাধ্যমে ২০২৪ সালে আমরা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে পেরেছি। আমার দেশ সম্পাদক আরো বলেন, আমি দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি- যে সমস্ত বয়ান সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দিচ্ছেন, সেই বয়ানের মধ্যে তারা বর্তমান বিরোধীদলকে শত্রু ভাবছেন এবং তাদের যে আসল শত্রু দিল্লিতে বসে আছেন সেই সম্পর্কে তারা ভুলে যেতে শুরু করেছেন। এটা দেশের জন্য এক অশনি সংকেত বলে আমি মনে করি। আমি আশা করি, আমরা সেই ঐক্য আবার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবো। কারণ, এই ঐক্যটা বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এই ঐক্যটা খুব জরুরি। ঐক্য বিঘ্নিত হয়েছে বলেই আপনারা দেখছেন, পলাতক স্বৈরাচার বিদেশী প্রভুর কাছে বসে নানা রকম বক্তব্য তিনি দিতে পারছেন। আজকে যদি বাংলাদেশে জুলাইয়ের সব বিপ্লবী ঐক্যবদ্ধ থাকতেন, তাহলে তার এই ঔদ্ধত্য হতো না।

ডা. শফিকুর রহমানও মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যে জুলাই শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে অক্ষত জাতির কথা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যের কথা। আরো বলা হয়েছে, সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি বর্তমান বিরোধীদলকে শত্রু ভাবেন, তাহলে আসল শত্রু বেঁচে যাবে, সেই শত্রু তো এখন দিল্লিতে বসে আছেন। প্রকৃত শত্রুকে ভুলে যাওয়াটা জাতির জন্য এক অশনি সংকেত। লক্ষণীয় বিষয় হলো, জুলাইয়ের সব বিপ্লবী কাক্সিক্ষত পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ না থাকায় যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সে কারণেই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করার ঔদ্ধত্য দেখাতে পারছে দণ্ডিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। সময়ের পাটাতনে দাঁড়িয়ে এখন ঐক্যের ডাক দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, সাড়া দেওয়ার দায়িত্ব বিরোধী দলের। তবে আচরণের ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।