দীর্ঘ তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে ম্যান ইন গ্রিনরা।

তবে নিছকই কোনো ম্যাচ জেতেনি পাকিস্তান, বরং টানা আট অ্যাওয়ে টেস্টে জয়হীন থাকার হতাশাও কাটিয়েছে বাবর আজমের দল। সেই সাথে এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে।

পাকিস্তানের শেষ অ্যাওয়ে টেস্ট জয় এসেছিল ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর বিদেশের মাটিতে একের পর এক ব্যর্থতা ঘিরে ধরলেও, অধিনায়ক হিসেবে ফিরে প্রথম সিরিজেই সেই বৃত্ত ভাঙলেন বাবর আজম।

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আবদুল্লাহ শফিক। প্রথম ইনিংসে তার অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংস পাকিস্তানকে ৩৮৭ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। একইসাথে ১৯৭৭ সালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দেড়শর বেশি রান করা প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটারও হন শফিক।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ৩৪৪ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় সফরকারীরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে স্বাগতিক দল।

বুধবার চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা। মাত্র ১৪ রান যোগ করতেই ১১৭ রানে গুটিয়ে যায়। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন কাভেম হজ। পাকিস্তানের হয়ে সাজিদ খান ও আলি উসমান ৪টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য মাত্র ৭৫ রানের লক্ষ্য পেলেও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান। ৪২ রানের মধ্যেই ইমাম-উল-হক ও আজান আওয়াইসকে হারায় তারা। তবে এরপর অধিনায়ক বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শফিক আর কোনো বিপদ হতে দেননি।

দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটিতে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। শেষ মুহূর্তে জোমেল ওয়ারিকানকে টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন বাবর। দু'জনেই অপরাজিত ছিলেন ২৪ রানে। দুই ইনিংসে ১৮৪ রান নিয়ে ম্যাচসেরা আবদুল্লাহ শফিক।

এই জয়ে টানা আটটি বিদেশ সফরের টেস্টে জয়হীন থাকার হতাশা কাটিয়েছে পাকিস্তান। একইসাথে বাবর আজমের দ্বিতীয় দফার টেস্ট অধিনায়কত্বের শুরুটা হয়েছে দারুণ এক জয় দিয়ে।

এমন জয়ের পর ম্যাচসেরা আবদুল্লাহ শফিক বলেন, ‘গত এক বছর কঠোর পরিশ্রম করেছি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। সুযোগ যখন এসেছে, সেটিকে কাজে লাগাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

অধিনায়ক বাবর আজমের ভাষ্য, আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পেরেছি। শফিকের ইনিংস এবং স্পিনারদের বোলিং—দু’টিই এই জয়ের মূল ভিত্তি।