প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে প্রতিষ্ঠিত লামাকাজী এম এ খান সেতুসহ সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছে সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।

একইসাথে ছাতকসহ বিভিন্ন পৌরসভায় পরিবহন চাঁদাবাজি বন্ধ, ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন বন্ধ, কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং সংগঠনের সভাপতি আবু সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ২টায় নগরীর দক্ষিণ সুরমা হুমায়ুন রশিদ চত্বরে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানান শ্রমিক নেতারা। এতে সিলেটের বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন।

সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শ্রী আবু সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ লস্করের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি নাজির আহমদ স্বপন, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার আহমদ সোহেল, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ জুবের, ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক, ট্রাক মালিক নেতা আক্তার রশীদ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, কয়ছর আহমদ জালালী, শাহজাহান আহমদ, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপদিত কাউছার আহমদ, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, সহ-সম্পাদক মাহবুব মিয়া মবু, সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মত্তছির আলী, শ্রমিক নেতা আহমদ আলী স্বপন, আব্দুল মতিন, সাইফুল আলম, মাছুম আহমদ, জুলহাস আহমদ বাদল, কামাল হোসেন, আব্দুল জলিল, আব্দুল করিম, ইলিয়াছ আহমদ, আলেক আহমদ সোহেল, জোমায়েল আহমদ জুমেল, আইন উদ্দিন, ফুল মিয়া, আফরোজ আলী, ফারুক আহমদ, সাইদুর রহমান সাইদুর, রাজু মিয়া, প্রবীণ শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, ইউসুফ মিয়া ও তুলা মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘লামাকাজী এম এ খান সেতু নির্মাণে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তার নামেই সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে। অথচ বছরের পর বছর ধরে এ সেতু দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকদের ওপর এই বাড়তি ব্যয় চাপিয়ে দেয়া বন্ধ করতে হবে।’

তারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরের নামে প্রতিষ্ঠিত সেতুতে এখনো টোল আদায় সিলেটবাসীর জন্য লজ্জার।’ অবিলম্বে লামাকাজী সেতুসহ সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধে প্রধানমন্ত্রীসহ সিলেটের মন্ত্রীদের প্রতি জোর দাবী জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা আরো বলেন, ‘ছাতক পৌরসভাসহ বিভিন্ন পৌরসভায় পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মোটর সংযুক্ত ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে পণ্য পরিবহন বন্ধ এবং কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে আবু সরকার বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানি ও বাড়তি ব্যয়ের শিকার হচ্ছেন। তাদের পাঁচ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরো বাড়বে।’ একইসাথে তার বিরুদ্ধে অনলাইনে মিথ্যা ও অপপ্রচার বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ছাতক পৌরসভাসহ বিভিন্ন পৌরসভার নামে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ, লামাকাজী এম এ খান সেতুসহ সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধ, মোটর সংযুক্ত ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে পণ্য পরিবহন বন্ধ, কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে মিথ্যা ও অপপ্রচার বন্ধ করা।