ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হারে ধস নেমেছে। এ বছর দাখিলে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৫ দশমিক ৭১। এ ছাড়া এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা মাদরাসার সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭৯ শতাংশ। বিপরীতে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৭৬ শতাংশ। একই সাথে ১০ শতাংশের নিচে পাসের হার থাকা মাদরাসার সংখ্যাও দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শতভাগ পাসের মাদরাসা ছিল ৪১০টি। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ৩২২টি বা প্রায় ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্য দিকে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ৮২টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২২৬টি। বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪৪টি বা প্রায় ১৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ১০ শতাংশের নিচে পাসের হার থাকা মাদরাসা ১০৬টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫৬টি।

শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও বড় অবনতি দেখা গেছে। এবার তিন লাখ সাত হাজার ৮৭ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত হয় দুই লাখ ৯৬ হাজার ১৮২ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে এক লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ১৮৫ জন। সার্বিক পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ১৪১ জনকে।

দাখিলের সাধারণ শাখায় পাসের হার ৫৪ দশমিক ২২ শতাংশ। এ শাখায় ছাত্রীদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ছাত্রদের ৫০ দশমিক ১১ শতাংশ। বিজ্ঞান শাখায় পাসের হার তুলনামূলক বেশি ৬৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ শাখায় ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৬১ দশমিক ১৭ শতাংশ। মুজাব্বিদ শাখায় ৫৪৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৫৭ জন।

ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও জিপিএ ৫ পেয়েছে ছয় হাজার ৭১৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র তিন হাজার ৫৭২ এবং ছাত্রী তিন হাজার ১৪৪ জন। জিপিএ ৪ পেয়েছে ৩৩ হাজার ৩৩৬ জন, ৩ দশমিক ৫০-৩ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ৩৪ হাজার ৪২২ জন এবং ৩৩ দশমিক ৪৯ পেয়েছে ৪১ হাজার ৬২৫ জন। জিপিএ ১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে এক হাজার ৫৩৬ জন।

জেলাভিত্তিক ফলেও বড় বৈষম্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা জেলায় ৮৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। এরপর কক্সবাজারে ৭৪ দশমিক ৪৯, ফেনী ৭৩ দশমিক ৬৬ এবং চট্টগ্রাম ৭১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিপরীতে সিরাজগঞ্জে পাসের হার সবচেয়ে কম, ৩৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। বরগুনা ৩৭ দশমিক ৮৮, ঝালকাঠি ৩৮ দশমিক ৭৩, রাজশাহী ৩৯ দশমিক ১০, রংপুর ৪৫ দশমিক ১৬, ময়মনসিংহ ৪৬ দশমিক ৬৪ এবং কুড়িগ্রাম ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে পাসের হার যথাক্রমে ৫১ দশমিক ৬৮, ৫২ দশমিক ৫৬ ও ৬০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমানের মতে, পরীক্ষাব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এবার নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ সীমিত করে অন্য কেন্দ্রে পরীক্ষা এবং সিসিটিভি নজরদারি চালু করা হয়েছে। এতে অনিয়মের সুযোগ কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও শিক্ষার্থী পাস না করা অবশ্যই প্রশ্নের বিষয়। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও একাডেমিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে এমপিওভুক্তির বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মনিটরিং আরো বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।