তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিবর্তে ‘মাদক নির্মূল অধিদপ্তর’ গঠনের প্রস্তাব তিনি সংসদে উত্থাপন করেছেন। তার ভাষায়, মাদক নিয়ন্ত্রণ বলতে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকে মাদক ক্রয়-বিক্রয়কে বোঝায়। কিন্তু মাদক নির্মূলের অর্থ হলো যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা, দেশে মাদক কারবার সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং মাদকের ক্রয়-বিক্রয় পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারই মাদক নির্মূলের কথা না বলে নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে। কারণ, মাদকের সিন্ডিকেট সরকারের ভেতর থেকেই পরিচালিত হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বাউফলকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, কোনো মাদক কারবারির তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও বলেন, একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং সর্বস্তরের সচেতন নাগরিককে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধ এবং কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ ফিরোজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।